• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৫
আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০২৫



মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড ২ লাখ টাকা জরিমানা

গ্রামীণ কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি (১৬.০৪.২০২৫) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজের কিশোরী মেয়েকে (১৫) ধর্ষণের দায়ে তার বাবা আলতাপ হোসেনকে (৪৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। একই সাথে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডিত আলতাপ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী গ্রামের বাসিন্দা। বিয়ের পর ২০০৮ সাল থেকে তিনি ঘরজামাই হিসেবে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা হুদাপাড়া গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের সরকারী কৌসূলি (স্পেশাল পিপি) এম.এম. শাহজাহান মুকুল বলেন, কিশোরী ধর্ষণ মামলায় বাবা আলতাপ হোসেনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। জরিমানার আদেশ তার(দন্ডিত ব্যাক্তির) জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পরবর্তী পর্যায়ে প্রথম দায়দেনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন। সর্বোপরি স্বাক্ষী শুরু থেকে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান করতে সক্ষম হয়েছি। সমাজে এ ধরণের ঘৃণিত অপরাধ আর যেনো সংগঠিত না হয় এটা আমরা আশা করছি। ২০২৪ সালের ৭ মার্চ ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী পার্শ্ববর্তী গাংনী ইউনিয়নে ওই কিশোরীকে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামীর বাড়ীতে অবস্থানকালে পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব অনুভূত হলে প্রেগনেন্সি পরীক্ষার মাধ্যমে ২/৩ মাসের অন্তসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হয় । ভুক্তভোগী জানায় যে, ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তার মা, তার বোনের বাড়ীতে বেড়াতে গেলে ওইদিন রাতে বাবা বসত ঘরে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ২/৩ মাসে ৭/৮ বার ধর্ষণ করেছে।
তদন্ত শেষে আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবর আলী গত ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৬ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায়ের আদেশ দেয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এম এম শাহজাহান মুকুল জানান, ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ খুশি। সমাজে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। ধর্ষণমালা মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তকে ২ লাখ টাকা করেছে। এ রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী রেবেকা সুলতানা জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়।

আরও পড়ুন

  • অপরাধ এর আরও খবর