• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল, ২০২৩
আপডেট : ৭ এপ্রিল, ২০২৩



চাঁদা দাবির অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানও আসামি

গ্রামীণ কণ্ঠ

নিজস্ব সংবাদদাতা: চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মো. সেলিম বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী অঞ্চল চন্দ্রগঞ্জ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এতে ১০ দিনের মধ্যে দাবিকৃত ২ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে সেলিমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাদীর আইনজীবী ইফতেখার ফয়সাল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলাটি আদালতের বিচারক আনোয়ার হোসেন আমলে নিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন শিপন খলিফা, এম সজিব, রিয়াজ হোসেন, কাজী আল-আমিন, মোরশেদ আলম, আনোয়ার হোসেন বাবু, সাইফুল পাটওয়ারী, আমিরুল ইসলাম মিরন, ইসমাইল হোসেন, তাজু ভূঁইয়া, রাকিব হোসেন, আরাফাত হোসেন রিফাত, মো. জয়, মো. রিমন, মো. পিয়াস, মো. সৈকত মো. শাওন ও অজ্ঞাত ৫ জন। অভিযুক্তরা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মামলার বাদী সেলিম চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী। তিনি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব।

এজাহার সূত্র জানায়, সম্প্রতি অভিযুক্তরা চন্দ্রগঞ্জ বাজারে সেলিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় বিচারের জন্য গেলে সেলিমকে ধমক দিয়ে অভিযুক্তদেরকে দাবিকৃত টাকা দিতে বলে চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। পরে ঘটনাটি স্থানীয় গন্যমান্যদের জানালে অভিযুক্তরা সেলিমের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ৫ এপ্রিল দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের যাত্রী চাউনি এলাকায় নুরুল আমিনসহ অভিযুক্তরা সেলিমের পথরোধ করে। এসময় তাদের দাবিকৃত ২ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেলিমকে পিটিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে গলাটিপে তাকে হত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এসময় তার পকেটে থাকা ৫ হাজার টাকা ও প্রায় ২৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। ১০ দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে ও ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তারা সেলিমকে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, সেলিম সিএনজি থেকে চাঁদা তোলে। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। মামলায় ঘটনার যে সময় দেওয়া হয়েছে, তখন আমি পরিষদে ছিলাম। আমার কাছে সাক্ষ্য প্রমাণ আছে। একটি চক্র সেলিমকে দিয়ে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। আদালতের নির্দেশনার কপি অফিসে এসেছে কি না জানা নেই। নির্দেশনা কপি হাতে পেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • জাতীয় এর আরও খবর